Thursday, August 11, 2016

বিবর্তনবাদের ইতিহাস

বিবর্তনবাদের ইতিহাস: 
পৃথিবীর সৃষ্টি তপ্ত গলিত লাভা থেকে।এই আগুনের গলিত তপ্ত পিন্ড হাজার হাজার বছর পর ঠান্ডা হয়ে আজকের এই সুন্দর পৃথিবী।যেখানে দেখা মিলে নদী,পাহাড়,সমুদ্র,ঝ্রণা,রংধনুর সাত রঙে ভরা আকাশ সহ আরো কত কি ...... 

প্রাণের সঞ্চার:
পৃথিবী জন্ম হওয়ার প্রায় একশত কোটি বছর পর জলের মধ্যে তৈরী হল প্রোটোপ্লাজম।যা নানা ধরণের মৌলিক জিনিষ দিয়ে তৈরী হয়েছিল।আমার ভাষায়,”লাইফ ইজ নাথিং বাট দ্যা এক্টিভিটিস অফ প্রোটোপ্লাজম”। এই কোষ প্রথমত একটি মানে, এককোষী প্রাণের সৃষ্টি ওখান থেকেই।এরপর অনেক কোষগুলো একত্রিত হয়ে আস্তে আস্তে বৃহৎ দেহের সৃষ্টি করে।

এগুলোর আবার কিছু কোষ থেকে দুটি,দুটি থেকে চারটি এভাবে তারা নিজেদের বংশ বাড়াতে লাগল।এগুলো প্রতিনিয়ত এমন ভাবে বড় হচ্ছিল যেটা বোঝার উপায় নেই যে আসলে আপাত দৃষ্টি তে মনে হয় সৃষ্টির আদি থেকেই এরা এত বড় ছিল।

মাছরাই হল পৃথিবীর প্রথম মেরুদণ্ডী প্রানী।যাদের থেকে অনেক বছর ধরে বিবর্তনের মাধ্যমে আজকে আমরা বিভিন্ন মেরুদণ্ডী,অমেরুদণ্ডী সহ প্রাণী জগতের ৯ টি পর্বের প্রানীরা এসেছি।কিন্তু এই বিবর্তনের ও অনেক ধাপ রয়েছে।এরা যথাক্রমে উভচর, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী।

যাদের মধ্যে সরীসৃপ পর্বের ডাইনোসরগোষ্ঠী'ই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে অতিকায় জানোয়ার।দুঃস্বপ্নের মত এদের চেহারা।ডিপ্লোডোকাস প্রজাতির ডাইনোসর লম্বায় ৫৮ হাত।এরা অতিকায় হলেও বুদ্ধিটা নেহায়েত খাটো।আমার আর আপনার মতো না।কারণ,এদের মগজের গঠন।এদের মগজ অতিকায় দেহের তুলনায় অনেক ছোট।আমার আর আপনার মত নয়।জানেন তো মানুষের মগজ ওজনে দেড় কেজি পর্যন্ত হয়।এই মগজ ও কিন্তু বিবর্তনের মাধ্যমে উন্নত হয়েছে।কারণ, সৃষ্টির আদি প্রাণিটি একটি কোষ দিয়ে গঠিত।সেখানে তার মগজ তো নগণ্যই।সে থেকে আস্তে আস্তে মাছ,টিকটিকি,ডাইনোসর,গরিলা,বন মানুষ(আধা-মানুষহোমিনিড), মুরগী,ইদুর ইত্যাদি ইত্যাদি এসেছে মানে আস্তে আস্তে তাদের মগজের উন্নতি হচ্ছে।আকারে যেমন বড় হচ্ছে তেমনি বুদ্ধিতেও।

আস্তে আস্তে মানুষ তার প্রয়োজনের তাগিদে শিখল আগুন জ্বালানো, শিখল শিকার করা,শিখল দলবদ্ধ ভাবে বেঁচে থাকতে।তখন তাদের কোন শত্রু ছিল না,ছিল সবাই ভাই-ভাই।এরপর আস্তে আস্তে মানুষের মস্তিষ্কের উন্নতি হতে লাগলল।তারা শিখে যেতে লাগল কিভাবে উন্নত হাতিয়ার ব্যবহার করা যায়।অর্থাৎ,  বন্য থেকে সভ্য হতে লাগল।

এরপর আস্তে আস্তে তারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে সবকিছু নিয়ে ভাগাভাগি খুঁজতে শুরু করল।তাদের মধ্যে এখন আর আগের সমান অধিকার নেই তারা  একে অন্যের থেকে উর্ধাসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।যার কারণে শুরু হয় নানা রকম হাঙামা।তবে এগুলো একদিনে হয় নি, হাজার হাজার বছর অতিক্রম করে,বিভিন্ন সভ্যতা (মিশরীয় সভ্যতা,দ্রাবিড় সভ্যতা, বৈদিক সভ্যতা,গ্রীক সভ্যতা) পেরিয়ে মানুষ আজ বড় হওয়ার লড়াইয়ে মেতেছে।তারা চায় একে অপরের ক্রীতদাস হয়ে থাকুক।মুনাফার লড়াইয়ে তারা আজ হন্য।

যাইহোক মানুষ তার বুদ্ধি আর উন্নত মস্তিষ্কের দ্বারা, মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ গড়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতা।
                                                 তথ্য প্রদানে   -আনন্দ মোহন।      
         ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি চিটাগাং।             
     

Post a Comment